
মূল লক্ষ্য:
২০৩০ সালের মধ্যে আমরা চাই বাংলাদেশের কমপক্ষে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) প্রফেশনাল এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে, যারা দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন সার্ভিস দিয়ে নিজস্ব আয় গড়বে এবং দেশের জিডিপিতে অবদান রাখবে।
বাংলাদেশের স্কিলভিত্তিক সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিকে ডিজিটাল, নিরাপদ ও ট্রান্সপারেন্ট করা।
আমাদের উদ্দেশ্য:
যে সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য আমাদের প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে;
বাংলাদেশে আজ ও লোকালি কাজ করার সুযোগ নায়। অথচ, দেশের মধ্যেই অসংখ্য ক্লায়েন্ট আছেন, যারা সার্ভিস নিতে চান, কিন্তু বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম বা লোক খুঁজে পান না।
একজন স্কিলড মানুষ যখন আন্তর্জাতিক কোনো ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কাজ করতে যান, তখন তাকে প্রথমেই বাধা দেয় ক্রেডিট কার্ড, পেমেন্ট গেটওয়ে, এর মতো বিষয়গুলো।
টাকা তুলতে গেলে কখনো ক্রেডিট কার্ড এর জন্য ১ থেকে ২ মাস সময় লেগে যায়। আবার ক্রেডিট কার্ড অর্ডার করলেও সেটাও সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অন্যদিকে “পে-ইউনিওন” বা অন্য যে কোন আন্তর্জাতিক মাধ্যম বাংলাদেশে স্বীকৃত না। যাদের এসবে একাউন্ট আছে টা যেকোনো সময় বিনা নোটিশ এ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের আয়ের মাধ্যম যেমন Payoneer, Pay-Union, Wise ইত্যাদি, অনেক সময় বাংলাদেশে পুরোপুরি অনুমোদিত নয়, বা এগুলোর ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। এছাড়া, যে অ্যাকাউন্ট গুলো আছে ওখানে সেগুলো যেকোনো সময় ক্লোজ করে দেয়। এবং ইনকামটা করবেন যে লার্নিং কার্ড দিয়ে, ওটা আসলে ঝামেলাপুর্ন এবং অনেক টাইপের সমস্যায় পড়তে হয়।
সমাধান হিসেবে আমরা যা করেছি :
ক্রিয়াকারক এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে একজন ক্লায়েন্ট এবং একজন স্কিলড সার্ভিস প্রোভাইডার সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন মাঝখানে কোনো এজেন্সি বা ব্রোকার ছাড়াই। বাংলাদেশে ক্রিয়াকারকই প্রথম যা একজন সার্ভিস পারসন এবং একজন একজন ক্লায়েন্ট এর সাথে সরাসরি যোগযোগ করিয়ে দেওয়ার সুজোগ করেছে। এতে করে ট্রান্সপারেন্সিটা এনসিওর হচ্ছে ।
সবাইকে NID দিয়ে ভেরিফাই করা হয়, যাতে প্ল্যাটফর্মে সবাই নিরাপদ ও সত্যিকারের মানুষ থাকে, এবং এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ট্রাস্ট তৈরি হয়।
সার্ভিস সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অর্থ নিরাপদভাবে প্ল্যাটফর্ম এ রাখা হয়। অর্থাৎ কেউ কাজ না করেই টাকা নিয়ে পালাতে পারবে না বা কাজ করেও টাকা না পাওয়ার ভয় নেই।
যে কেউ চাইলে অন্যদের রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কাকে দিয়ে কাজ করাবেন বা কার কাছ থেকে সার্ভিস নিবেন।
অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেখানে ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিশন কেটে নেয়, সেখানে ক্রিয়াকারকে কমিশনের ব্যাপারটা অলমোস্ট শূন্য। আগে একজন সার্ভিস প্রভাইডার আর্ন করবেন , আর্ন করা টাকা টা ও তুলে ফেলতে পারবেন। এরপর মাস শেষে আপনার টোটাল আর্নিং এর উপর ২% কমিশন আমরা চার্চ করছি। এটি মূলত, ক্রিয়াকারকের সার্ভার, সিকিউরিটি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কভার করার জন্য।
অন্যদের তুলনায় ক্রিয়াকারকের পার্থক্য:
| বিষয় | অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম | ক্রিয়াকারক |
| কমিশ | ৩০% থেকে ৪০% | মাত্র ২% (মাস শেষে) |
| যোগাযোগ | প্ল্যাটফর্ম নির্ধারিত | সরাসরি ক্লায়েন্ট ও সার্ভিস প্রোভাইডার যোগাযোগ |
| পছন্দ করার স্বাধীনতা | নেই | সম্পূর্ণ স্বাধীনতা আছে |
| টাকা তোলা | জটিল ও সময়সাপেক্ষ | সহজ এবং দ্রুত টাকা তুলতে পারবেন |
| পরিচয় যাচাই | সীমিত | NID ভেরিফায়েড এবং ট্রাস্টেড ইউজার |
| মধ্যস্বত্বভোগী | ব্রোকার/এজেন্সি থাকে | কোনো এজেন্সি/ব্রোকার নেই |
| প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ | প্ল্যাটফর্ম দ্বারা কাজ নির্ধারিত | সিদ্ধান্ত নেয় ক্লায়েন্ট এবং সার্ভিস প্রোভাইডার |
অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন “উবার” বা “সেবা XYZ” এ ক্লায়েন্টরা সার্ভিস প্রোভাইডার বেছে নিতে পারে না। অধিকাংশ কাজ যায় এজেন্সি বা ব্রোকারদের মাধ্যমে, যেখানে আসল কাজ করা মানুষটি তার প্রাপ্য অর্থের সামান্য অংশই পান। তাছাড়া, তারা ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিশন কেটে নেয়। বিপরীতে, ক্রিয়াকারক সরাসরি এক্সপার্ট ও ক্লায়েন্টকে কানেক্ট করে, মাত্র ২% কমিশন নেয়, এবং উভয় পক্ষের মধ্যকার ট্রাস্ট ও ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করে। এবং এটি একটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিক, প্রোফেশনাল, নিরাপদ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
আমাদের মূল বার্তা:
আমরা শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম না, আমরা একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে চাই। এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি স্কিলড মানুষ তার দক্ষতা দিয়ে আয় করতে পারবে, সম্মান পাবে এবং একজন প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে তাও আইনগতভাবে, নিরাপদে, নিজের দেশের লোকদের সেবা দিয়ে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রিয়াকারক শুধু একটি ডিজিটাল সার্ভিস মার্কেট নয়, বরং এটি একটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিক স্কিলড ইকোনমি তৈরির লক্ষ্যে গৃহীত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ।