বাংলাদেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শেফ ও বেইকার এর অবস্থান এবং আর্নিং
সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বাংলাদেশি গৃহশেফ ও বেকাররা তাদের হোমমেড পণ্য বিক্রি করছেন, ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই ডিজিটাল চ্যানেলগুলো রান্নাবান্না করা মানুষদের তাদের এলাকার বাইরেও গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করছে। এক পর্যবেক্ষক উল্লেখ করেছেন, প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন ঘরে বসেই শেফরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেজ, রেসিপি ব্লগ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন (সূত্র: thedailystar.net)।উদাহরণস্বরূপ, জারিন তাসনিম ফেসবুকের কুকিং গ্রুপে বাড়িতে তৈরি সুশি ও ডেজার্ট বিক্রি শুরু করেন এবং দ্রুতই “অবিশ্বাস্য প্রশংসা” ও নতুন গ্রাহক পান। একইভাবে, বেকার নাসিহা এন. রহমান ২০২০ সালে তার বন্ধুদের উৎসাহে অনলাইন কেক শপ “Bucklebury Ferry” চালু করেন, কারণ সবাই তার সাজানো কেক কিনতে চাইছিল (সূত্র: thedailystar.net)। বর্তমানে অনেক বেকার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট ও গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে তাদের কেক ও পেস্ট্রির প্রচার করেন, আবার শেফরা মেনুর ছবি শেয়ার করে অর্ডার নেন।ডেলিভারি অ্যাপে হোম শেফদের যাত্রাস্মার্টফোন অ্যাপ এবং ফুড ডেলিভারি সার্ভিস রান্নাঘরের আয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফুডপান্ডার হোমশেফ প্রোগ্রাম, যা ২০২০ সালে চালু হয়, এখন ৬৪টি জেলায় ৩০,০০০-এর বেশি গৃহশেফকে তালিকাভুক্ত করেছে, যার ৭০% নারী (সূত্র: dhakatribune.com)। এরা মিলিতভাবে মাসে প্রায় ৬০,০০০ অর্ডার সম্পন্ন করেন, যা অনেকের জন্য বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০% শেফের প্রধান জীবিকার মাধ্যম এখন এটি (সূত্র: dhakatribune.com)।ফুডপান্ডা বা পাঠাওয়ের মতো অ্যাপের সাথে কাজ করে গৃহভিত্তিক ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়া বা বাড়তি স্টাফের খরচ ছাড়াই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। শিল্প বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফুডপান্ডা রেস্টুরেন্ট ও হোম শেফদের জন্য “অতিরিক্ত আয়ের” সুযোগ তৈরি করেছে যা আগে শুধুমাত্র ওয়াক ইন গ্রাহকদের মাধ্যমে সম্ভব ছিল।সরকার ও এনজিওরাও এই সেক্টরকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি, ফুডপান্ডার ২২ জন হোমশেফকে ৫০,০০০ টাকা করে উদ্যোক্তা অনুদান দেওয়া হয়েছে (সূত্র: thedailystar.net), এবং আরও ৫০ জন iDEA স্টার্টআপ গ্রান্ট পেয়েছেন (সূত্র: dhakatribune.com), যা নীতিনির্ধারকদের আগ্রহকে প্রতিফলিত করছে।ক্রিয়াকারক: সবার জন্য এক সৃজনশীল মার্কেটপ্লেসমূলধারার অ্যাপগুলোর পাশাপাশি, বাংলাদেশের নিজস্ব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও আছে, যেমন ক্রিয়াকারক, যা সৃজনশীল পেশাজীবীদের জন্য একটি মার্কেটপ্লেস, যেখানে এখন শেফ এবং বেকাররাও যুক্ত হচ্ছেন।ক্রিয়াকারকে শেফরা তাদের রান্নার পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারেন, যাতে তারা ক্লায়েন্টদের আকর্ষণ করতে পারেন। এই প্ল্যাটফর্মে একজন শেফ তার খাবারের ছবি প্রদর্শন, ফুড ফটোগ্রাফার বা ইভেন্ট প্ল্যানারের সাথে সহযোগিতা, এমনকি ক্যাটারিং কাজ বা কুকিং ক্লাসের সুযোগও পেতে পারেন (সূত্র: kriyakarak.com)।ক্রিয়াকারকের ফিচারগুলো যেমন রেটিং সিস্টেম, মেসেজিং এবং কম ফি খাদ্য উদ্যোক্তাদেরকে দোকান ছাড়াই ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে এবং বুকিং ম্যানেজ করতে সাহায্য করছে। সংক্ষেপে, সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি এটি একটি প্রফেশনাল প্রোফাইল ও ডিসকভারি হাব হিসেবে কাজ করছে সৃজনশীল প্রতিভাদের জন্য (সূত্র: kriyakarak.com)।আজ, অনেক হোম শেফ অনলাইনে বিক্রি করে মাসে দশ হাজার থেকে লাখ টাকার আয় করছেন, যা পরিবারের আয়ের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র কম মূলধনে নারীরা বিশেষ করে ছোট ব্যবসা শুরু বা বড় করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা কর্মসংস্থান ও স্থানীয় খাদ্যের বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে।ডিজিটাল স্কিল ট্রেনিং, নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি সার্ভিস এবং স্বাস্থ্যবিধি সহায়তার মাধ্যমে এই আয় আরও বাড়ানো সম্ভব এবং বাংলাদেশের উদীয়মান হোম শেফ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা যাবে (সূত্র: thedailystar.net, dhakatribune.com)।