
মেহেদি বা হেনা আর্ট দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ যা বাঙালি বিয়ে, ঈদ, পূজা বা অন্য যেকোনো উৎসবে সৌন্দর্য বাড়ায় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে তোলে এটি আনন্দ ও শুভতার প্রতীক। আজকাল অনেকেই খোঁজেন সহজ এবং তাড়াতাড়ি করা যায় এমন মেহেদি ডিজাইন, যা দেখতে আড়ম্বরপূর্ণ হলেও খুব বেশি সময়সাপেক্ষ নয়। আঙুলে ছোট ফুলপাতার নকশা থেকে শুরু করে অর্ধেক বা পুরো হাতের ডিজাইন সব ধরনের মানুষের জন্যই সহজ স্টাইল আছে।
এখানে থাকছে ১০০ রকম সহজ ও সুন্দর মেহেদি ডিজাইনের ধারণা, যা নতুন থেকে অভিজ্ঞ সবার জন্য মানানসই।
কেন সহজ ও সরল মেহেদি ডিজাইন বেছে নেবেন?
১. মিনিমাল ফিঙ্গার মেহেদি
আজকাল তরুণীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। আঙুলে ছোট ফুল বা পাতার নকশা দিলে সুন্দর ও আধুনিক লুক আসে।
ছবিতে দেখা যায় এক হাতের পেছনে গোলাকার নকশা আর ফুলের কাজ, যা উৎসব বা বিয়ের জন্য একেবারেই মানানসই।
২. তালুর মেহেদি ডিজাইন
তালুর মাঝখানে ছোট মন্ডল বা গোলাকার নকশা, তার চারপাশে ফুল বা বিন্দু দিয়ে ডিজাইন করতে পারেন। তালুর কেন্দ্রে তারকা আকারের ফুল করতে পারেন ।
কবজি থেকে তালুর মাঝামাঝি পর্যন্ত আরবী স্টাইলে হালকা স্ট্রোক ডিজাইন করতে পারেন।
৩. হাতের পেছনের মেহেদি ডিজাইন
বিয়ে বা পার্টিতে খুব মানানসই হাতের পেছনের ডিজাইন।
ব্রেসলেট স্টাইলের মেহেদি করতে পারেন।
তির্যক ফুলের লতা করতে পারেন।
জ্যামিতিক নকশার সাথে পাতা করতে পারেন।
৪. কবজি ও ব্রেসলেট ডিজাইন
এটি গহনার মতো লুক দেয়।
পুরু লাইন দিয়ে কাফ ব্রেসলেট হতে পারে
পাতার সাথে চেইন ডিজাইন
বিন্দু বিন্দু দিয়ে ব্রেসলেট নকশা
৫. সহজ আরবি মেহেদি ডিজাইন
আরবি ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য হলো মোটা লাইন ও ফাঁকা জায়গা। অর্ধেক হাতে ফুলের লতাসহ বড় ফুল পাতার সাথে যুক্ত মোটা রেখা ও হালকা বিস্তারিত নকশা।
৬. ফুলের মেহেদি ডিজাইন
এই ডিজাইন সবচেয়ে চিরন্তন ও জনপ্রিয়। হতে পারে, তালুতে একটি গোলাপ বা পদ্ম ফুল থেকে অনুপ্রাণিত নকশা। আর আঙুলে ছোট ছোট ফুলের গুচ্ছ।
৭. জ্যামিতিক মেহেদি ডিজাইন
আধুনিক ও ফ্যাশনেবল লুকের জন্য। বর্গাকার ব্লক ও বিন্দু দিয়ে ডিজাইন করা হয়। হীরকাকৃতি লাইন বা কবজিতে ত্রিভুজাকার কাফ করে ও ডিজাইন করা হয়।
৮. শিশুদের মেহেদি ডিজাইন
শিশুদের জন্য হালকা ও মজার নকশা।
হতে পারে হাতের তালুতে ছোট প্রজাপতি, কার্টুন নকশা, ছোট ফুল ও তারকার নকশা।
প্রথমবার যারা মেহেদি দিবেন/ বিগিনার দের জন্য কিছু টিপস;
সব সময় হাত ধুয়ে পরিষ্কার করে লাগান।
ছোট ছোট নকশা (বিন্দু, গোল, পাতা) দিয়ে শুরু করুন।
আগে কাগজে প্র্যাকটিস করুন।
৪ থেকে ৫ ঘণ্টা হাতে রেখে দিন যাতে রং গাঢ় হয়।
মেহেদি লাগানোর ১২ ঘণ্টার মধ্যে পানি এড়িয়ে চলুন।
৯. কোন কোন অনুষ্ঠানে মানানসই
সহজ মেহেদি মানেই যে সৌন্দর্যে কমতি, তা নয়। বরং ছোট, পরিষ্কার নকশা অনেক সময় জটিল ডিজাইনের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠে। যারা নতুন, কিংবা দ্রুত মেহেদি লাগাতে চান এই ধারণাগুলো তাদের জন্য দারুণ সহায়ক হবে।
ফুলেল লতা থেকে শুরু করে ব্রেসলেট নকশা আর আরবি স্টাইল সব ধরনের সহজ মেহেদি ডিজাইন সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে আজও জনপ্রিয়।